ভূমিকা
সফর ইসলামী হিজরি বর্ষের দ্বিতীয় মাস। আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন সফর মাস অশুভ, অমঙ্গলজনক বা বিপদ-আপদের মাস। অথচ এই ধারণার কুরআন ও সহীহ হাদীসে কোনো ভিত্তি নেই।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা অনুযায়ী, বিশেষ করে আলা হযরত ইমাম আহমদ রযা খান রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শিক্ষায়, বছরের প্রতিটি মাসই আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি এবং কোনো মাস নিজে থেকে মানুষের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। একজন মুমিনের ভরসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার উপর।
সফর মাস কি অশুভ?
না।
জাহেলিয়াত যুগে আরবদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল যে সফর মাস অশুভ এবং এ মাসে বিভিন্ন বিপদ-আপদ নেমে আসে। ইসলামের আগমনের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ এই কুসংস্কারকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—
"কোনো সংক্রামক রোগ (আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়ায় না), কোনো অশুভ লক্ষণ নেই এবং সফর মাস অশুভ নয়।"
(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
এই হাদীসের অর্থ হলো—সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস মনে করা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
আহলে সুন্নাতের আকীদা
আলা হযরত ইমাম আহমদ রযা খান রহমাতুল্লাহি আলাইহি শিক্ষা দিয়েছেন—
উপকার ও অপকারের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা।
কোনো মাস, দিন, সংখ্যা বা বস্তু নিজে থেকে অমঙ্গল আনতে পারে না।
সফর মাসকে অশুভ মনে করা জাহেলিয়াতের কুসংস্কার।
একজন মুসলমানের উচিত সব ধরনের কুসংস্কার বর্জন করে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা।
সফর মাসে কি বিয়ে বা নতুন কাজ করা যাবে?
অবশ্যই যাবে।
ইসলামে সফর মাসে—
বিয়ে করা,
বাগদান সম্পন্ন করা,
ব্যবসা শুরু করা,
নতুন চাকরিতে যোগদান,
ভ্রমণ করা,
বাড়ি কেনা,
গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা
—এসবের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
শুধুমাত্র সফর মাস বলে এসব কাজ পিছিয়ে দেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।
সফর মাস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন—
সফর মাসে বিয়ে করলে অশান্তি হয়।
সফর মাসে ভ্রমণ করা উচিত নয়।
এ মাসে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।
নতুন ব্যবসা শুরু করলে ক্ষতি হয়।
সফরের অমঙ্গল দূর করতে বিশেষ আমল করতে হয়।
এসব বিশ্বাসের কুরআন ও সহীহ হাদীসে কোনো প্রমাণ নেই।
সফর মাসে আমাদের করণীয়
সফর মাসেও অন্যান্য মাসের মতোই বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত।
যেমন—
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
কুরআন তিলাওয়াত করা।
বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করা।
আল্লাহর জিকির করা।
দোয়া করা।
সদকা করা।
আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
সুরক্ষার জন্য কী আমল করা উচিত?
ইসলামে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দোয়া, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
তবে এগুলো শুধুমাত্র সফর মাসের জন্য নয়; বরং সারা বছরই সুন্নত আমল।
সফর মাস থেকে আমাদের শিক্ষা
সফর মাস আমাদের শিক্ষা দেয়—
কুসংস্কার নয়, আল্লাহর উপর ভরসা করতে।
অশুভ ধারণা নয়, কুরআন ও সুন্নাহকে অনুসরণ করতে।
ভাগ্য নির্ধারণ করে কোনো মাস নয়; সবকিছু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় ঘটে।
উপসংহার
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা অনুযায়ী—
সফর মাস অশুভ নয়।
সফর মাস সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার ইসলামের শিক্ষা নয়।
সফর মাসে বিয়ে, ব্যবসা, ভ্রমণ ও অন্যান্য বৈধ কাজ করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
এ মাসে অন্যান্য মাসের মতোই বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া, দরূদ শরীফ, কুরআন তিলাওয়াত ও সদকার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন, সহীহ আকীদার উপর অটল রাখুন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও আহলে সুন্নাতের আকীদা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফীক দান করুন।
আমীন।
