পবিত্র কুরআনে আহলে বাইতের ভালোবাসা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার বাণী:
﴿قُلْ لَّاۤ اَسْــٴَـلُكُمْ عَلَیْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِی الْقُرْبٰى﴾
আপনি বলে দিন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; তবে নিকটাত্মীয়দের ভালোবাসা চাই। (পারা ২৫, সূরা আশ-শূরা: ২৩)
---------------------------------
সাহাবায়ে কিরামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহ আহলে বাইতকে ভালোবেসে এসেছে। ছোট-বড় সকলেই আহলে বাইতের ভালোবাসার দাবিদার। হযরত আল্লামা আবদুর রউফ মুনাভী رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ বলেন, “এমন কোনো ইমাম বা মুজতাহিদ অতিবাহিত হননি, যিনি আহলে বাইতের ভালোবাসা থেকে বড় অংশ এবং সুস্পষ্ট গৌরব অর্জন করেননি।” (ফাইযুল কাদীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৬)
হযরত আল্লামা ইউসুফ ইবন ইসমাঈল নাবহানী رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ বলেন, “উম্মতের এসব অগ্রগণ্য ইমামদের যখন এটাই পন্থা, তখন কোনো মুমিনের জন্য তাদের থেকে পিছিয়ে থাকা শোভনীয় নয়।” (আশ-শারাফুল মুয়াব্বাদ লি আলে মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা ৯৪)
সাইয়্যিদুনা সিদ্দীকে আকবরের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা:
একবার হযরত সাইয়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক رَضِىَ اللهُ عَنْهُ-এর সামনে আহলে বাইতের আলোচনা হলে তিনি বলেন, “সেই সত্তার শপথ, যাঁর কুদরতের মুঠোয় আমার প্রাণ! রাসূলুল্লাহﷺ-এর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আমার কাছে নিজের আত্মীয়দের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার চেয়েও অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয়।” (বুখারী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩৮, হাদীস: ৩৭১২)
হযরত উকবা ইবন হারিস رَضِىَ اللهُ عَنْهُ বর্ণনা করেন, হযরত সাইয়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক رَضِىَ اللهُ عَنْهُ আমাদের আসরের নামাজ পড়ালেন। এরপর তিনি এবং হযরত আলী আল-মুরতাযাكَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ الْكَرِيْم উঠে চললেন। পথে হযরত হাসান رَضِىَ اللهُ عَنْهُ-কে শিশুদের সঙ্গে খেলতে দেখে হযরত সাইয়্যিদুনা সিদ্দীকে আকবরرَضِىَ اللهُ عَنْهُ তাঁকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন, “আমার মা-বাবা তাঁর জন্য কুরবান! তিনি রাসূলে আকরামﷺ-এর সদৃশ, আলীর নন।” তখন হযরত আলী আল-মুরতাযাكَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ الْكَرِيْم মুচকি হাসছিলেন। (সুনানুল কুবরা লিন্-নাসাঈ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৮, হাদীস: ৮১৬১)
সাইয়্যিদুনা ফারূকে আযমের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা:
একবার হযরত উমর ফারূক رَضِىَ اللهُ عَنْهُ হযরত সাইয়্যিদাতুনা ফাতিমাতুয যাহরা رَضِىَ اللهُ عَنْهَا-এর নিকট গিয়ে বললেন, “হে ফাতিমা! আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে ছাড়া আর কাউকে রাসূলে আকরাম ﷺ-এর কাছে অধিক প্রিয় দেখিনি। আর আল্লাহর শপথ! আপনার সম্মানিত পিতার পরে মানুষের মধ্যে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ আমার নিকট নয়।” (মুস্তাদরাক, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৯, হাদীস: ৪৭৮৯)
হযরত আবু হুরাইরার আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা:
হযরত সাইয়্যিদুনা আবু হুরাইরা رَضِىَ اللهُ عَنْهُ বলেন, “আমি যখনই হযরত ইমাম হাসান رَضِىَ اللهُ عَنْهُ-কে দেখি, অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে আমার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।” (মুসনাদে ইমাম আহমাদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৩২)
হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা:
হযরত সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ বলেন, “আলে রাসূলের এক দিনের ভালোবাসা এক বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।” (আশ-শারাফুল মুয়াব্বাদ লি আলে মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা ৯২)
হযরত আমীর মু‘আবিয়ার আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা:
হযরত আমীর মু‘আবিয়াرَضِىَ اللهُ عَنْهُ বলেন, “হযরত আলী আল-মুরতাযাكَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ الْكَرِيْم-এর কয়েকটি পদচিহ্নও আলে আবু সুফিয়ান (অর্থাৎ আমাদের) থেকে উত্তম।” (আন-নাহিয়াহ, পৃষ্ঠা ৫৯)
তিনি হযরত আলী আল-মুরতাযা كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ الْكَرِيْم এবং আহলে বাইতের অসংখ্য ফযীলত বর্ণনা করেছেন। (তারীখু ইবন আসাকির, খণ্ড ৪২, পৃষ্ঠা ৪১৫)
তিনি হযরত আলী আল-মুরতাযা كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ الْكَرِيْم-এর ফয়সালাও কার্যকর করেছেন এবং জ্ঞানগত একটি মাসআলায় তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তনও করেছেন। (সুনানুল কুবরা লিল-বাইহাকী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২০৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৯)
এভাবেই একবার হযরত আমীর মু‘আবিয়া رَضِىَ اللهُ عَنْهُ হযরত ইমাম হাসান ইবন আলী رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا-এর হাত ধরে বললেন, “পিতা-পিতামহ, চাচা-ফুফু এবং মামা-খালার দিক থেকে তিনিই মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।” (আল-ইকদুল ফারীদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৪৪)
তিনি রাসূলে মুস্তাফা ﷺ-এর সদৃশ হওয়ার কারণে হযরত ইমাম হাসান رَضِىَ اللهُ عَنْهُ-কে সম্মান করতেন। (মিরআতুল মানাজীহ, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪৬১)
একবার তিনি ইমামে আলী মাকাম হযরত ইমাম হুসাইন رَضِىَ اللهُ عَنْهُ-এর ইলমী মজলিসের প্রশংসা করেন এবং তাতে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। (তারীখু ইবন আসাকির, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ১৭৯)
✍️হাফেজ মাওলানা সোহেল রেযা কাদেরী মাদানী
